১৯৭১ সালে যুদ্ধের দিনগুলি

বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক

সিনিয়র ইন্সট্রাকটর,এআইবি

সম্পাদক,ই-ম্যাগাজিন

আমার মনোবল দৃঢ় হয়েছিল অনুপ্রানিত হয়েছিল। নতুন দেশ লাভ করার জন্য ব্যাকুল হয়েছিল। নতুন দেশ লাভ করার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলাম যখন গোপন রেডিও থেকে কথাগুলো ভেসে এল

 

এ বারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম

এ বারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।

 

কথাগুলো বলেছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মজিবুর রহমান। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালে।আমি তখন থাকি ১২০০ মাইল দূরে করাচির কোরাঙ্গি ক্রিক বিমান বাহিনী এলাকায় । গোপন রেডিও মাধ্যমে এই কথাগুলো শোনার সৌভাগ্যে আমার হয়েছিল।নতুন দেশ , নতুন মানুষকে ‍দেখার জন্য ব্যাকুল হয়েছিলাম।

দেশে ফেরার পালা:

জানামত নতুন পথ খুজতে শুরু করলাম নতুন পথ খুজে অনেক বন্ধু আমার বন্দি হয়ে জেল হয়েছে। আমার জেল বা শাস্তি কিছু হয় নি। অনেক কস্টে টিকেট সংগ্রহ ও ছুটি নিয়ে মার্চ মাসের শেষে বাড়ী ভিরলাম।

 

মাকে প্রথম দেখা

আমার বাড়ী পৌছতে সেদিন বিকেল হয়ে গেল। বাড়ী পৌছে আমার মাকে দেখে প্রথমে চিনতে পারি নাই। যেন কয়েকখানা হাড় জড় হয়ে আছে যিনি আমার মা। আমার প্রিয় মা । আমাকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে পরে গেলেন। আমিও মাকে জড়িয়ে কাদতে লাগলাম।

যুদ্ধে যাওয়া

প্রায় তিন বছর পর বাড়ীতে এসে বেশিদিন থাকতে পারলাম না। একদিন রাজাকারগন আমাকে ঘিরে অনেক প্রশ্ন করলেন। জানতে পারলাম ওরা আমাকে তুলে নিয়ে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিবে। আর পাকিস্তানিরা হয়তো আমাকে মেরে ফেলবে অথবা পাকিস্তান পাঠিয়ে দিবে।কোনটাই আমার জন্য সুখকর নয়।তখন সিদ্ধান্ত নিলাম মুক্তি যুদ্ধে যাব।দেশের জন্য যুদ্ধ করবো।মুক্তি যুদ্ধে যোগদান করার জন্য প্রায় ৬০ মাইল হেটে ভারতের সিতাই নামক স্থানে পৌছলাম, সেখানে এমপি ও তৎকালীন বড় নেতারা থাকতেন।

৬ নং সেক্টরে যোগদান

ভারতের সিতাই নামক স্থানে ৫ দিন অবস্থান করে ৬ নং সেক্টরে যোগদান করার জন্য রওয়ানা ‍দিলাম।আমার সঙ্গে আরও ২জন যুবক রয়েছে।ভারতের কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি জেলা পার হয়ে চেংড়া বান্দা নামক স্থানে এসে পৌছিলাম। তারপর বুড়িমারি যুদ্ধ এলাকায় এলাম, এমন সময় বিকেল হয়ে গেছে।

পায়ে হেটে রেললাইন ধরে বুড়িমারী যাওয়ার পথে প্রথম বাংলাদেশ নামক একটি দেশের পতাকা দেখতে পেলাম। পতাকা রেল লাইনের দুইটি খুটির উপর দাড়িয়ে আছে।

স্বাধীন দেশের পতাকা দেখে গর্বে মন ভরে গেল। লাল সবুজের মাঝে বাংলাদেশের ম্যাপ। কি গর্ব আমার । আমি অথবা আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করছি। আমার বুক ভরে গেল।

Freedom Fighter Photo.jpg - Copy

যুদ্ধের দিনগুলি

৬ নং সেক্টরে যোগদান করলাম। আমার সাথে যাওয়া বন্ধুরাও পরিচয় হল সেক্টর কমান্ডারের সাথে।সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইঙার (তৎকালীন) এম কে বাশার । পরিচয় হল আগড়তলা মামলার আসামী সার্জেন্ট জলিলের সাথে, পরিচয় হল আরও অনেকের সাথে। শুধু কাজ আর কাজ , যুদ্ধের সময় কাজের কোন শেষ নাই যখন যে কাজ , তখনই করতে হবে। যুদ্ধ এলাকার দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলো। একদিন আমরা ক্যান্টনমেন্ট দখল করার জন্য রংপুর রওয়ানা হলাম।হঠাৎ করে শুনতে পারলাম আজ বিকালে ঢাকা ফল করছে। ঢাকায় অস্ত্র সমর্পন করবে পাকিস্তানি সৈন্যগণ, কি আনন্দ, সে দিন কোন মুক্তিযোদ্ধার বন্দুকে গুলি ছিল না। সবাই অস্ত্র আকাশের দিকে তাক করে, শত শত গুলি ছুরছে কি আনন্দমুখর পরিবেশ।

বড় খানা

এলাকাবাসী আনন্দিত, সামর্থ্যবান সবাই ৪ / ৫ টা গরু ও ৫/ ৬ টা খাসি দান করলো মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। জন্ম হল নতুন দেশের , বাংলাদেশ নামক দেশটিই ।

সবাই আনন্দিত ,গর্বিত। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছে, ‍যুদ্ধ করে। এ দেশ উন্নত হবে। সমৃদ্ধশীল হবে এই আমাদের কাম্য।

আমীন ।

 

One thought on “১৯৭১ সালে যুদ্ধের দিনগুলি

Comments are closed.