১৮ বছর বয়সে দুইজনেই ঘর ছেড়েছি

courtesy : Mahbub Da Classic

১৮ বছর বয়সে দুইজনেই ঘর ছেড়েছি,
তুমি যখন সকাল এ উঠে ভাবতে কোন শার্ট আর প্যান্ট পড়ে ক্যাম্পাসে যাবো,
তখন আমি ভাবতাম সাদা কালো ইউনিফর্ম টা পরিষ্কার আছে তো?
তুমি যখন ভাবতে নেক্সট সেমিস্টার এ ইম্প্রুভ দিবো,
তখন আমি ভাবতাম ৭৫ এ পাশ হবে তো।
তুমি যখন ছুটিতে ঘুড়ে বেড়াও,
তখন আমি ল্যাব এ বসে ভাবি কবে পেন্ডিং মডিউল টা ক্লিয়ার করা যায়।
১৮ বছর বয়সে দুইজনেই ঘর ছেড়েছি,
তুমি যখন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার চিন্তা করো
তখন আমি দেখি নাইট এ শিডিউল কয়টায়।
তুমি যখন ফাইলে সাইন করে নিশ্চিন্তে এসিতে বসে থাকো,
তখন আমি রোদে পুড়ে ফ্লাইটের ডিপারচার এর খাতায় সাইন করে ভাবি,
ফ্লাইট টার সব কিছু ঠিক আছে তো।
তুমি যখন তোমার সন্তান কে নিয়ে ব্যস্ত,
তখন আমি বসে পড়া ফ্লাইট টাকে কিভাবে ঠিক করে ফ্লিটে নেয়া যায় সেটা নিয়ে দিনের পর দিন বাসায় না যেয়ে ক্ষান্ত।
১৮ বছর বয়সে দুইজনেই ঘর ছেড়েছি,
তুমি যখন ইফতারি বা সেহেরির প্লেট নিয়ে বসেছ,
তখন আমার তাড়া ফ্লাইট ডিলেই হলে,যাত্রী তার পরের ফ্লাইট টা আর ধরতে পারবে না।
রোদে পুড়ে,বরষা তে ভিজে আমার এপিউলেট টাই তখন বুঝে,
আমি ঠিক তখন কতো টা ক্লান্ত।
১৮ বছর বয়সে দুইজনেই ঘর ছেড়েছি,
তুমি যখন একজন মানুষ বাঁচাতে ব্যাস্ত,
তখন আমি একসাথে শতাধিক মানুষের জীবন বাচানোর খাতায় সিগনেচার করছি নিজেকে দায়ী রেখে।
এই হচ্ছে একজন এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারের জীবন। ২৪*৭ সার্ভিস দিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন এর আমানতকারী হয়ে, সঠিক সময়ে ফ্লাইট ডিপারচার দেয়ার জন্য প্রফেশনে ঢুকার প্রথমদিন থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ একজন মানুষ।

 কাউকে ছোট করে দেখানোর জন্য না। সবাই সবার সেক্টর থেকে সমান ভাবে জরুরী। ইদানিং দেখলাম এই ধরনের অনেক প্রফেশন এর পোষ্ট দেখি,তাই দিলাম।
তাই আসুন সবাইকেই সম্মানের চোখে দেখি 🙂